মনের যত কথা
১। শ্রীশ্রীঠাকুর:–ভোরে ওঠার অভ্যাস করে ফেলতে হয়। সমস্ত কাজগুলি এমন ভাবে বিন্যস্ত করে ফেলতে হয়,যাতে সময়মত শোওয়া যায় এবং ভোর বেলায় ওঠা যায়। আবার, এমন হয় অনেক রাত্রে শুয়েও ঠিক সময় ওঠা যায়।
২। শ্রীশ্রীঠাকুর:– শারীরিক স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য, আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্য –এই তিনটি সুসমন্বিত হলে তখনই তুমি সুস্থ।তার আগে সুস্থ বলে জিনিস নেই। আর, নিজে সুস্থ্য যখন, তখনই পারবে তুমি মানুষকে সুস্থির পথে নিতে।
৩। ভিজে পায়ে খাওয়া, শুকনো পায়ে শোওয়া কেন?
শ্রীশ্রীঠাকুর:— ভিজে পায়ে খেলে upper blood circulation (উপরদিকের রক্ত সঞ্চালন) বাড়ে, তাতে হজম ক্রিয়ার সুবিধা হয় এবং শুকনো পায়ে শুলে মাথার রক্ত সঞ্চালন কমে, তাতে ঘুম ভাল হয়।
৪। ইসবগুল ও থানকুনী সেবনে—
শ্রীশ্রীঠাকুর:— নিয়মিত ইসবগুল খেলে অনেক কিছু বদমাল বের করে দেয়। সহজে বার্ধক্য আসতে দেয় না। থানকুনীও শরীরবিধানকে বেশ শক্ত করে তোলে।
৫। শ্রীশ্রীঠাকুর:— ভোরে উঠে সূর্য্যোদয়ের প্রাক্কালে সবুজ দিগন্তের দিকে তাকান চোখের পক্ষে খুব ভাল।তিলের নাড়ু, তিলের বড়া, তিলের তক্তি খাওয়া ভাল। আর, মুখ ধোওয়ার সময় চোখে জলের ঝাপটা দিতে হয়। চোখ খোলা অবস্থায় চোখ বন্ধ রেখে নয়।
৬। কোমরের_ব্যথায়:–
শ্রীশ্রীঠাকুর:— সৈন্ধবাদি তেল ভাল ক’রে মালিশ করা লাগে।তারপর নিশিন্দা- পারার সেঁক দেওয়া লাগে। বেশীদিন ধ’রে করতে হয়। Daily (রোজ) করতে–করতে সেরে যায়। হয়তো পাঁচ- সাত দিনের মধ্যে সেরে যায়।কিন্ত অনেক দিন ধ’রে maintain (পালন) করা লাগে।
৭। অম্বল গ্যাস বদহজমে:—
শ্রীশ্রীঠাকুর:— পাথরচুরের পাতার এক চামচ, একটু চিনি দিয়ে রোজ সকালে খালিপেট যদি খাওয়া হয় তাহ’লে অম্বল, গ্যাস,বদহজম, এসব সেরে যায়।
৮। ঝাল খাওয়া:—
শ্রীশ্রীঠাকুর: — শুকনো লঙ্কা না খেয়ে কাঁচা লঙ্কা খেলে অতো ক্ষতি করে না। কাঁচা লঙ্কার fresh (তাজা) ‘সি” -ভিটামিন খুব বেশী।তাও মাত্রামত খেতে হয়। ঝাল বেশি খাওয়া যেমন ক্ষতি, স্বাভাবিক অবস্থায় একেবারে না -খাওয়াও তেমনি ক্ষতি। ঝাল হিসাবে গুলমরিচ ও আদা ভাল। সবই মাত্রামত।
৯। লিভার খারাপ আর পেটের গোলমালে।
শ্রীশ্রীঠাকুর — নিমগুলঞ্চ, কালমেঘ, কুলেখাড়া, গোলমরিচ, একত্র বেটে কুলের মতো পরিমাণ বড়ি ক’রে শুকিয়ে রেখে রোজ সকালে খেলে উপকার হ’তে পারে। বহুদিন ধরে খেতে হয়।
১০। একজন জিজ্ঞেস করলেন লঙ্কা বেশি খাওয়া কি ভাল?
শ্রীশ্রীঠাকুর:— বেশি খেলে পেট irritated (উত্তেজিত) হয়, মাথা irritated (উত্তেজিত) হয়। প্রয়োজন মত খাওয়া ভাল, যাতে system (শরীর-বিধান) উদ্ ব্যস্ত না হয়।
(আলোচনা প্রসঙ্গে,২০,২২,১৮,৬ খণ্ড ও (দীপরক্ষী:- ৪,৫ খণ্ড)
সদাচারে বাঁচে-বাড়ে
     লক্ষ্মী বাঁধা তা’র ঘরে । ১।
সদাচারে রত নয়
    পদে-পদে তা’র ভয় । ২।
সদাচার বলে কা’রে
    তা’ কিরে তুই বুঝিস্ ?
যে-আচারে বাঁচে-বাড়ে
   সদাচার তা’ জানিস্ । ৩।
সদাচারে লক্ষ্য রেখে
   যে-কাজ করিস্ চলিস্ দেখে,
অনাচারে বাড়বে ভয়
    আনবে কতই বিপর্য্যয় । ৪।
স্বাস্থ্যটিকে নিয়ন্ত্রণে করি’ দৃঢ়তর
থেকো তুমি সুজাগ্রত ওহে অনুক্ষণ—-
পূজিবারে ইষ্টদেবে সার্থক আচারে
নীচ বুদ্ধি, অহমিকা করিয়া বর্জ্জন । ৫।
আচার বিনয় বিদ্যা কাজে
     দেখবি যেমন দক্ষ যা’য়
তেমনি কুলের গরব নিয়ে
    জন্মেছে সে এ ধরায় । ৬।
ইষ্টনেশায় তুষ্ট প্রাণ
     সদাচারী হ’লে,
মনের স্বাস্থ্য জীবনশক্তি
      অটুটভাবেই চলে । ৭।
ইষ্টনিষ্ঠ সদাচারী
     নীচ জাতিও হ’লে,
অন্নপানীয়ে কমই দোষ
     জাত যায় না ছুঁলে । ৮। ( অনুশ্রুতি,শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচক্রবর্তী)

পোষ্টটি লিখেছেন: নীরব পথিক

নীরব পথিক এই ব্লগে 28 টি পোষ্ট লিখেছেন .