মনের যত কথা

ব্রহ্মা যখন জীবকুল সৃষ্টি করেন তখন মৃত্যু বলে কিছু ছিল না। এর ফলে কেবল জন্ম‌ই হতে থাকে এবং কারো মৃত্যু না হওয়ায় পৃথিবী ভরে যায় জীবে। এত ভার বইতে গিয়ে পৃথিবীর অবস্থা সঙ্গিন হয়ে পড়ে। তা দেখে ব্রহ্মা চিন্তান্বিত হন এবং স্বায়ম্ভূব নামক এক মনু সৃষ্টি করেন। এই স্বায়ম্ভূবের পুত্র হলেন রুচি। রুচির সাত পুত্রের মধ্যে ভরত অন্যতম। সাত পুত্রকে সপ্ত দ্বীপের অধিকার দেন রুচি। এর মধ্যে জ্যেষ্ঠ পুত্র পান জম্বুদ্বীপ এবং ভরত পান প্লক্ষ দ্বীপ। কিন্তু ভরতের ইচ্ছে ছিল জম্বুদ্বীপ নেওয়ার। পছন্দমত দ্বীপ না পেয়ে ক্রোধে সন্ন্যাসী হয়ে বেরিয়ে পড়েন ভরত এবং মিহির পর্বতে গিয়ে কঠিন তপস্যা শুরু করেন। তাঁর তপস্যায় তুষ্ট হয়ে ব্রহ্মা বর দিতে‌ এলে বর না নিয়ে মৌন থাকেন ভরত। বার বার অনুরোধ করার পর‌ও ভরত মৌন থাকায় ব্রহ্মা ভীষণ রেগে যান এবং ব্রহ্মার চোখের আগুন থেকে এক ভয়ঙ্কর দৈত্যের জন্ম হয়। সেই দৈত্যের কারণে পৃথিবীর ভার আরও বৃদ্ধি পায়। কেঁপে কেঁপে উঠতে থাকে পৃথিবী। এত ভার সহ্য করতে না পেরে পৃথিবী ব্রহ্মার কাছে ভার কমানোর মিনতি করেন। এতে ব্রহ্মা চিন্তায় পড়ে যান এবং ভগবতীর কাছে যান। চিন্তায় তাঁর কপালে ঘাম দেখা দেয়। সেই ঘাম থেকে জন্ম হয় মহাভয়ংকর মৃ’ত্যুর। জন্ম হওয়া মাত্র ব্রহ্মার দিকে তাকিয়ে ভীষণদর্শন মৃত্যু বলে, আজকেই আমি সমস্ত জীবকূল নিধন করব। তখন ব্রহ্মা হেসে তাকে বলেন, ক্রোধ সংবরণ করো। জম্বুদ্বীপে যাও তারপর ধর্ম-অধর্ম বুঝে সবাইকে দন্ড দাও। সেই থেকে পৃথিবীতে জন্ম-মৃত্যুর সহাবস্থান।

তথ্যসূত্র – মহাভারত (শান্তি পর্ব)

পোষ্টটি লিখেছেন: নীরব পথিক

নীরব পথিক এই ব্লগে 41 টি পোষ্ট লিখেছেন .