মনের যত কথা
মৃত্যুর পরও ব্যাংকে আমাদের কত টাকা রয়ে যায়, অথচ বেঁচে থাকতে আমরা টাকা খরচ করি না। সেদিন এক ধনকুবের মারা গেলেন। বিধবা স্ত্রী মৃত স্বামীর ২০০ কোটি টাকার ওয়ারিশ হয়েই (স্বামীর) ড্রাইভারকে বিয়ে করে ফেলল। ড্রাইভার মনে মনে ভাবল, এতদিন জানতাম আমি আমার মালিকের জন্য কাজ করছি, এখন দেখি আমার মালিকই আমার জন্য শ্রম দিয়ে গেছেন!
নিরেট সত্যটি হচ্ছে, অনেক টাকার মালিক হওয়ার চেয়ে সুস্থ শরীর এবং দীর্ঘজীবন লাভ করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই অন্ধের মতো টাকার পিছনে না ছুটে সুস্থ জীবন যাপন করার চেষ্টা করা উচিত।
জীবনের নানা ঘটনা প্রবাহে আমার এই কথার সত্যতা উপলব্ধি করা যায়। যেমন:
১. দামি এবং অনেক ফাংশন ওয়ালা মোবাইল ফোনের ৭০%-ই অব্যবহৃত থেকে যায়।
২. একটি বিলাসবহুল ও দ্রুতগতি সম্পন্ন গাড়ির ৭০% গতি কখনোই দরকার হয় না।
৩. প্রাসাদতুল্য মহামূল্যবান অট্টালিকার ৭০% অংশে কেউ বসবাস করে না।
৪. আলমারি ভর্তি পোশাক পরিচ্ছদের বেশিরভাগই কোনোদিন পরা হয়ে ওঠে না।
৫. মানুষের সারা জীবনের পরিশ্রমলব্ধ অর্থ সম্পদের ৭০%-ই আসলে অন্যের জন্য। জমানো অর্থ যাদের জন্য আপনি রেখে যাবেন, আপনার জন্য বছরে একবার প্রার্থনা করার সময়ও তাদের হবে না।
তাহলে করণীয় কী?
১. অসুস্থ না হলেও নিয়ম করে মেডিকেল চেকআপ করান।
২. পিপাসার্ত না হলেও পানি পান করুন।
৩. কারো ওপর রাগ পুষে রাখবেন না। মানুষকে ক্ষমা করতে শিখুন।
৪. আপনার সিদ্ধান্ত সঠিক জেনেও কখনো কখনো ছাড় দিন।
৫. যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন, মাঝে মাঝে সঙ্গীর সাথে নিরিবিলি কোথাও বসে গল্প করুন, বাইরে খেতে নিয়ে যান।
৬. ক্ষমতাবান হলেও বিনয়ী হোন।
৭. সুযোগ পেলেই পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরতে বেড়িয়ে পড়ুন।
৮. ভালো ভালো বই পড়ুন, মজার মজার সিনেমা দেখুন, পছন্দের গান শুনুন।
৯. মাঝে মাঝে সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত, চাঁদের আলো, কুয়াশা, খোলা আকাশ দেখুন। বছরে একবার হলেও বৃষ্টিতে ভিজুন। আর দিনে অন্তত কিছুটা সময় গায়ে রোদ লাগান।
১০. টাকা-পয়সা কম থাকলেও তৃপ্ত থাকুন। মনে রাখবেন, পৃথিবীর অধিকাংশ ধনী লোক মানসিক অশান্তিতে থাকে।
সবশেষে বলি, জীবন তো একটাই, তাই মন খুলে বাঁচুন।

পোষ্টটি লিখেছেন: নীরব পথিক

নীরব পথিক এই ব্লগে 41 টি পোষ্ট লিখেছেন .